Thursday, October 19, 2017

Shrishri Madanmohan Balaram Jiu Temple, Rudrani, Hooghy, West Bengal


শ্রীশ্রী মদনমোহন  বলরাম  জিউ  মন্দির,  রুদ্রাণী,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ  

            হুগলি  জেলার  ধনিয়াখালি  ব্লকের  একটি  গ্রাম  রুদ্রাণী।  এখানকার  মদনমোহন  বলরাম  মন্দির  বিখ্যাত।  কথিত  আছে,  ঠাকুর  বৈরাগ্য  নামে  এক  সাধক  বৃন্দাবন  থেকে  মদনমোহনকে  এখানে  এনে  প্রতিষ্ঠা  করেন।  তিনি  বৃন্দাবনের  গিরিগোবর্ধনের  গুহায়  এই  দারু  বিগ্রহ  পেয়েছিলেন।  রুদ্রাণীতে  তিনি  আশ্রম  প্রতিষ্ঠা  করে  বিগ্রহের  সেবা-পুজো  করতে  থাকেন।  পাঠান  নৃপতি  দাউদ  খাঁ   মোঘলদের  তাড়া  খেয়ে  তাঁর  আশ্রমে  এসে  আশ্রয়  নেন।  তিনি  এখানে  কিছুদিন  নিরাপদে  থাকেন।  যাবার  সময়  তিনি   ঠাকুর  বৈরাগ্যকে  বেশ  কিছু  অর্থ  দিয়ে  যান।  সেই  অর্থে  মন্দির  নির্মিত  হয়। 

            বহুবার  সংস্কৃত  মন্দিরটি  দালান  ধরণের।  ২০১৭  সালে  বর্তমান  মন্দিরটি  সোমসপুরের  প্রফেসর ( ডঃ )  গোপাল  চন্দ্র  ভর  ও  শ্রী  দুলাল  চন্দ্র  ভর  তাঁদের  বাবা-মায়ের  স্মৃতি  রক্ষার্থে  পুনরায়  নির্মাণ  করে  দেন।  মন্দিরের  একটি  কক্ষে  নীলবর্ণ  মদনমোহন  ও  শুভ্রবর্ণ  বলরাম  ও  অন্য  একটি  কক্ষে  স্বর্ণবর্ণ  রাধিকা  ও  রেবতী  মূর্তি  প্রতিষ্ঠিত।  চারটিই  দারুমূর্তি।  মন্দিরে  ঠাকুর  বৈরাগ্যের  সমাধি  আছে। 

            হাওড়া-বর্ধমান  ( কর্ড )  লাইনের  একটি  স্টেশন  ধনিয়াখালি  হল্ট।  রেলপথে  দূরত্ব  ৪৮  কিমি।  এই  স্টেশন  থেকে  অটোতে  সহজেই  মন্দিরে  যাওয়া  যায়।  ১৭  নম্বর  ( চুঁচুড়া-ধনিয়াখালি )  বাসে  রুদ্রাণীর  মল্লিকপুর  বাজারে  নেমে  উত্তর  দিকের  রাস্তা  ধরে  কিছুটা  হাঁটলেই  মন্দির। 


মদনমোহন  বলরাম  মন্দির

নীলবর্ণ মদনমোহন ও  শুভ্রবর্ণ বলরাম মূর্তি 

স্বর্ণবর্ণ  রাধিকা  ও  রেবতী  মূর্তি
    

  সহায়ক  গ্রন্থাবলী :        
         ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ২ য়  খণ্ড ) :  সুধীরকুমার  মিত্র
        ২)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য

                                           *****      

Bishalakshi Temple, Sinet, Hooghly, West Bengal


বিশালাক্ষী  মন্দির,  সিনেট  / সেনেট,  হুগলি

শ্যামল  কুমার  ঘোষ  

            হুগলি  জেলার  পোলবা-দাদপুর  ব্লকের  একটি  গ্রাম  সিনেট  বা  সেনেট।  এই  গ্রামের  আগের  নাম  ছিল  সেনহাটি  বা  সানিহাটি।  গ্রামটি  চুঁচুড়া-ধনিয়াখালি  বাস  রাস্তায়  অবস্থিত।  চুঁচুড়া  বা  ধনিয়াখালি  হল্ট  স্টেশন  থেকে  ১৭  নম্বর  বাসে  যাওয়া  যায়।  এখানকার  বিশালাক্ষী  মন্দির  বিখ্যাত। 

            দেবীর  দ্বিভুজা  মৃন্ময়ী  মূর্তি।  প্রাচীন  কালে  স্থানীয়  হালদার  বংশ  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত।  একবার  বর্ধমানের  মহারাজা  সংকটাপন্ন  রোগে  আক্রান্ত  হন।  মহারাজের  একজন  কর্মচারী  ছিলেন  পোলবা  অঞ্চলের  বাসিন্দা।  তিনি  এই  বিশালাক্ষীর  প্রসাদি  ফুল  ও  চরণামৃত  নিয়ে  মহারাজকে  দেন।  চরণামৃত   গ্রহণের  পর  মহারাজের  রোগের  উপশম  হয়।  আরোগ্য  লাভের  পর  বর্ধমানের  মহারাজা  দেবীর  বর্তমান  মন্দির  নির্মাণ  করে  দেন।  উত্তরপাড়ার  মুখোপাধ্যায়রা  দেবীর  সেবার  ব্যবস্থা  করেন। 

            অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী,  জোড়বাংলা  মন্দিরের  গায়ে  আগে  টেরাকোটা  অলংকারে  অলংকৃত  ছিল।  কিন্তু  সেই  টেরাকোটার  কিছুই  আজ  অবশিষ্ট  নেই।  মন্দিরটি  ১২২৯  বঙ্গাব্দে  বা  ১৮২২  খ্রিস্টাব্দে  নির্মিত  বলে  পূর্বসূরিদের  গ্রন্থে  লেখা  আছে।  কিন্তু  ১৪১৯  বঙ্গাব্দে  মন্দির  সংস্কারের  সময়  যে  লেখা  হয়েছে  তা  ১৪০২  বলে  উল্লেখ  করা  হয়েছে।  মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  লাগানো  থাকলেও  তা  এখন  পড়া  যায়  না।  গর্ভগৃহের  সামনে  ত্রিখিলান  অলিন্দ।  মন্দিরের  সামনে   টিনের  চাল  দেওয়া  একটি  নাটমন্দির  আছে। 

            সুদূর  অতীতে  কেদারমতি  নদী  যখন  বেগবতী  ছিল  তখন  পারাপারের  জন্য  দুই  তীরে  দুটি  ঘাট  ছিল,  সেই  দুটি  ঘাটের  উত্তর  দিকে  অবস্থান  ছিল  দ্বারবাসিনীর  বিষহরি  ও  দক্ষিণ  দিকে  অবস্থান  ছিল  সিনেটের  বিশালাক্ষী।  দ্বারবাসিনীর  বিষহরি  ও  সিনেটের  বিশালাক্ষী  বিশেষ  লোকধর্মীয়  কার্জকরণসূত্রে  আবদ্ধ,  উভয়ে  দুই  বোন  হিসাবে  কল্পিত।    

            গর্ভগৃহে  শাড়ি  পরিহিতা  বিশালাক্ষী  দেবীর  মূর্তি  দণ্ডায়মান।  দেবীর  বাঁহাতে  পান  পাত্র,  ডানহাতে  খাঁড়া,  গলায়  নরমুণ্ডমালা।  শিব  দেবীর  পদতলে  শয়ান।  দেবীর  ডান   পা  শিবের  উপর  সংন্যস্ত  এবং  বাঁ  পা  অসুরের  খণ্ডিত  মস্তকের  উপর  স্থাপিত।   দেবীর  মুখের  উপরের  দন্তপংক্তি  বিকশিত,  স্মিতহাস্যযুক্ত।  দেবীর  দক্ষিণ  দিকে  মহাদেব,  লক্ষ্মী,  ও  গণপতি  এবং  বাঁ  দিকে  শ্রীরামচন্দ্র,  সরস্বতী  ও  কার্তিকের  মূর্তি  আছে।  পিছনে  আছে  ভূত  প্রেতাদি।   

মন্দিরের  তোরণ 

নাটমন্দির  সহ  বিশালাক্ষী  মন্দির 

মন্দিরের  সামনের  ত্রিখিলান  বিন্যাস 

বিশালাক্ষী  মা  অন্যান্য  দেবদেবীর  মূর্তি 

বিশালাক্ষী  মা - ১

বিশালাক্ষী  মা - ২

  সহায়ক  গ্রন্থাবলী :        
         ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ২ য়  খণ্ড ) :  সুধীরকুমার  মিত্র
         ২)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য
         ৩ ) পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন : ভূপতিরঞ্জন  দাস 


                                           *****   
                  

Dolmancha, Talchinan, Hooghly, West Bengal


দোলমঞ্চ,  তালচিনান, হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হুগলি  জেলার  পোলবা-দাদপুর  ব্লকের  একটি  গ্রাম  তালচিনান।  গ্রামটি  চুঁচুড়া-ধনিয়াখালি  বাস  রাস্তায়  অবস্থিত।  চুঁচুড়া  বা  ধনিয়াখালি  হল্ট  স্টেশন  থেকে  ১৭  নম্বর  বাসে  যাওয়া  যায়। এখানে  পাঠকবংশ  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত  জনার্দনের  একটি  দোলমঞ্চ  আছে।

            উঁচু  ভিত্তি বেদির  উপর  স্থাপিত  দোলমঞ্চটি  পঞ্চরত্ন  ধরণের।  কেদ্রীয়  চূড়াটি  উঁচু।  প্রতিটি  শিখরের  উপরিভাগ  রেখদেউল  ধরণের   আড়াআড়িভাবে  খাঁজকাটা।  চারটি  স্তম্ভের  উপর  দোলমঞ্চটি  দণ্ডায়মান।  স্তম্ভগুলি  পরস্পর  ধনুরাকৃতি  খিলানের  দ্বারা  সংযুক্ত।  ১৭১৪  শকাব্দে ( ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দ )  নির্মিত  দোলমঞ্চটির   সামনের  দিক  পুরো  দেওয়াল  জুড়ে  উত্তম  'টেরাকোটা'  অলংকারে  অলংকৃত।  পাশের  দেওয়াল  দুটির  শুধু  খিলানের  উপর  'টেরাকোটা'  আছে।  তবে  সংস্কারের  সময়  রঙের  প্রলেপ  দেওয়াতে  এই  'টেরাকোটা'  কিছুটা  এখন  ম্লান। 


দোলমঞ্চ ( আমার  ডান  দিক  থেকে  তোলা )

দোলমঞ্চ ( আমার  বাঁ   দিক  থেকে  তোলা )

দোলমঞ্চের  সামনের  বিন্যাস 

দোলমঞ্চের  সামনের  একাংশ 

দোলমঞ্চের  সামনের  অপরাংশ 

দোলমঞ্চের  সামনের  উপর  দিকের বিন্যাস 

সামনের  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 

প্রতিষ্ঠাফলক 

দোলমঞ্চের  বাঁ  পাশের  খিলানের  উপরের  কাজ

দোলমঞ্চের  ডান  পাশের  খিলানের  উপরের  কাজ

বড়  করে 

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  কাজ - ১

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  কাজ - ২ 

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  কাজ - ২ ( বড়  করে )

দোলমঞ্চের  ডান  দিকের  কোনাচ 

কুলুঙ্গির  মধ্যে  কাজ - ১

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ২

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ৩

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ৪

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ৫

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ৬

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ৭

দোলমঞ্চের  বাঁ  দিকের  কোনাচ 


 সহায়ক  গ্রন্থাবলী :            
         ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

                                           ******

Friday, September 15, 2017

Boraichandi Temple,Boraichanditala,Chandannagar,Hooghly, West Bengal


বোড়াইচণ্ডী  মন্দির,  বোড়াইচণ্ডীতলা,  চন্দননগর,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-ব্যাণ্ডেল  রেলপথে  চন্দননগর  ত্রয়োদশতম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৩২.৬  কিমি।  চন্দননগর  নামটি  সম্ভবত  'চন্দ্র  নগর'  নাম  থেকে  এসেছে।  কেউ  কেউ  বলেন  যে  গঙ্গানদী  এখানে  চন্দ্রাকার  বলে  প্রথমে   'চন্দ্রনগর'  এবং  তার  থেকে  'চন্দননগর'  হয়েছে।  আবার  অনেকের  মতে  একসময়  এখানে  চন্দনকাঠের  বড়  বাণিজ্যকেন্দ্র  ছিল।  তা  থেকে  'চন্দননগর'  নামটির  উদ্ভব।  এক  সময়  শহরটি  ফরাসীদের  অধিকারে  থাকার  জন্য  নাম  হয়  'ফরাসডাঙা'।  বিপ্রদাস  পিপলাই  রচিত  মনসামঙ্গল  কাব্যে  চন্দননগরের  উল্লেখ  নেই,  তবে  চন্দননগরের  অন্তর্গত  'বোড়ো'র  উল্লেখ  আছে।              

            চন্দননগরের  বোড়াইচণ্ডীতলায়  অবস্থিত  বোড়াইচণ্ডী  মন্দিরটি  ঊনবিংশ  শতাব্দীতে  নির্মিত।  আগে  জায়গাটার  নাম  ছিল  বোড়ো।  জনশ্রুতি,  প্রায়  পাঁচশ  বছর  আগে  সিংহলে  আটক  পিতাকে  মুক্ত  করার  জন্য  শ্ৰীমন্ত  সদাগর  বোড়াইচণ্ডীর  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  জোড়বাংলা  ধরনের।  দুটি  'দোচালা'  বা  'একবাংলা'  জোড়া  দিয়ে  এ  ধরণের  মন্দির  তৈরি  হয়  বলে  এই  স্থাপত্য  শৈলীর  নাম  'জোড়বাংলা'।  মন্দিরের  প্রথম  দোচালাটি  অলিন্দ  এবং  দ্বিতীয়  দোচালাটি  গর্ভগৃহ  হিসাবে  ব্যবহৃত  হয়।  মন্দিরের  পাশ  থেকে  না  দেখলে  মন্দিরটি  যে  'জোড়বাংলা'  তা  বোঝার  উপায়  নেই।  ত্রিখিলান  অলিন্দ।   মন্দিরের  সামনে  মন্দির  লাগোয়া  একটি  নাটমন্দির  আছে।  

              গর্ভগৃহে  চতুর্ভূজা  মা  বোড়াইচণ্ডী  প্রতিষ্ঠিতা।  বোড়াইচণ্ডীর  মূর্তিটি  নিমকাঠের  তৈরী।  তার  উপর  অষ্টধাতুর  পাত  দিয়ে  মোড়া।  পাথরের  বোড়াইচণ্ডী  মূর্তিটি  মন্দিরে  সংরক্ষিত  আছে।  আট  ঘর  সেবায়েতরা  পালা  করে  মায়ের  সেবাকার্য  পরিচালনা  করে  থাকেন।  


বোড়াইচণ্ডী  মন্দির 

বোড়াইচণ্ডী  মন্দির ( নাটমন্দির  থেকে  তোলা )

'জোড়বাংলা' মন্দির ( পাশ  থেকে  তোলা ) 

ভৈরব 

গর্ভগৃহের  কাজ 

মা  বোড়াইচণ্ডী - ১

মা  বোড়াইচণ্ডী - ২

মা  বোড়াইচণ্ডী - ৩

  সহায়ক  গ্রন্থাবলী :
         ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য  
         ২)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ২ য়  খণ্ড ) :  সুধীরকুমার  মিত্র  

                                              ****** 

Shib Temple, Sahaganj and Khamarpara, Hooghly,West Bengal


শিবমন্দির,  সাহাগঞ্জ  ও  খামারপাড়া,  হুগলি

শ্যামল  কুমার  ঘোষ  


               হাওড়া-বর্ধমান  মেন  লাইনে  ব্যাণ্ডেল  জং  একটি  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৩৯.৪  কিমি।  ব্যাণ্ডেল  স্টেশন  থেকে  অটোতে  সাহাগঞ্জে  আসা  যায়।  এই  গ্রামটি  মুঘল  বাদশাহ  আজিমওস্মান  শাহর  দৃষ্টি  আকর্ষণ  করে  এবং  তাঁর  ইচ্ছা  অনুসারে  গ্রামটি  তাঁর  নামযুক্ত  হয়ে  'সা-আজিমগঞ্জ'  নামে  পরিচিত  হয়।  পরে  সংক্ষিপ্ত  হয়ে  নাম  হয়  সাগঞ্জ  বা  সাহাগঞ্জ।  নবাব  আজিমওস্মান  আওরঙ্গজেবের  পৌত্র  ছিলেন  এবং  তাঁর  রাজত্বকালে  আজিমওস্মান  বাংলার  শাসনকর্তা  ছিলেন।  সাহাগঞ্জের  নন্দী  পরিবার  এক  সময়  খুবই  বিখ্যাত  ছিল।

              প্রধান  রাস্তার  উপর  অবস্থিত,  উপ-ডাকঘরের ( নতুন  ডাকঘর )  কাছে  নন্দী  পরিবার  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত  আটটি  শিবমন্দির  ও  একটি  রাসমঞ্চ  আছে।  এগুলির  মধ্যে  দুটি  মন্দির  মধ্য-ঊনিশ  শতকে  নির্মিত, পশ্চিমমুখী  ও  আটচালা।  মন্দিরদুটিতে  পশ্চিম  ও  পূর্ব  দিকে  একটি  করে  দরজা  আছে।  অপর  ছয়টি  মন্দির  ও  রাসমঞ্চ  ১২৭১ বঙ্গাব্দের  ৪ ঠা  জ্যৈষ্ঠ (  ১৮৬৪  খ্রীষ্টাব্দে ) নির্মিত। মন্দিরগুলি  আকারে  ছোট,  আটকোণা,  দক্ষিণমুখী,  একদ্বার  বিশিষ্ট  ও  গম্বুজাকার  শিখরবিশিষ্ট।  মন্দিরগুলি  নামযুক্ত।  কিন্তু  কয়েকটির  নাম-ফলক  এখন  অপসারিত  বা  লেখা  পড়া  যায়  না।  রাসমঞ্চটির  গঠনও  একই  রকম।  রাসমঞ্চের  একদিকে  দুটি  ও  অপরদিকে  চারটি  মন্দির  অবস্থিত।  পশ্চিম  দিকের  দুটি  মন্দিরের  মাঝে  ও  পূর্ব  দিকের  চারটি  মন্দিরের  এক  মন্দির  থেকে  অপর  মন্দিরে  ভিতর  দিয়ে  যাওয়ার  পথ  আছে।  মন্দিরগুলিতে  কালো  কষ্টিপাথরের  শিবলিঙ্গ  নিত্যপূজিত।  


রাসমঞ্চ  ও  শিবমন্দির 

দুটি  আটচালা  ও  দুটি  আটকোণা  শিবমন্দির 

আটকোণা  রাসমঞ্চ  ও  শিবমন্দির 

আটকোণা  একটি  শিবমন্দিরের  প্রতিষ্ঠাফলক 

আটকোণা  একটি  শিবমন্দিরের  শিবলিঙ্গ 

             সাহাগঞ্জের  সোজা  উত্তরে  ডানলপ  কারখানা  ছাড়িয়ে  খামারপাড়ার  বকুলতলায়  অষ্টাদশ  শতকে  নির্মিত  দুটি  জীর্ণ  মন্দির  আছে।  একটি  নবরত্ন  ও  অপরটি  পঞ্চরত্ন।  আলোচ্য  নবরত্ন  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদীর  উপর  স্থাপিত,  পূর্বমুখী  ও  একদ্বারবিশিষ্ট।  তিনটি  খিলানের  মাঝের  খিলানটির  নিচে  একমাত্র  দরজা।  পাশের  দুটি  খিলানের  নিচে  দুটি  ভরাট  করা  দরজা।  মন্দিরটিতে  এক  সারি  ছোট  ছোট  কুলুঙ্গির  মধ্যে  টেরাকোটা  মূর্তি  আছে।  শিখরগুলি  রেখ  দেউল  ধরণের।  আগে  মনে  হয়  তিনটি  দেওয়ালে  'টেরাকোটা'  অলংকার  ছিল।  ( কারণ  পাশের  দুটি  দেওয়ালে  কার্নিসের  কাছে  সামান্য  'টেরাকোটা'  অবশিষ্ট  আছে। )  এখন  কেবলমাত্র  সামনের  দেওয়ালে  'টেরাকোটা'  বর্তমান।  তাও  সেই  'টেরাকোটা'  অলংকারের  বেশির  ভাগই  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  যেটুকু  অবশিষ্ট  আছে  তাতে  বোঝা  যায়,  এই  'টেরাকোটা'  উন্নতমানের। 

             মন্দিরে  রামরাবণের  যুদ্ধ,  মহিষমর্দিনী,  বৃষপৃষ্ঠে  শিব,  মকর,  প্রতীক  শিবমন্দির  ও  শিবলিঙ্গ,  ফুলকারি  নকশা,  বড়  ফুল,  পাখি,  নারী  মূর্তি,  কল্পলতা  বা  মৃত্যুলতা   ইত্যাদি  বর্তমান।  মন্দিরে  কালোপাথরের  শিবলিঙ্গ  নিত্যপূজিত।  পঞ্চরত্ন  মন্দিরটিতে  এখন  আর  কোন  'টেরাকোটা'  অলংকার  অবশিষ্ট  নেই।  মন্দিরটি  বর্তমানে  পরিত্যক্ত।  



নবরত্ন  মন্দির 

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 

বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ 

মহিষমর্দিনী  মূর্তি 

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ১

কুলুঙ্গির  মধ্যের  কাজ - ২

ভরাট  করা  দরজার  উপরের  কাজ 

মকর  মূর্তি  ও  অন্যান্য  নকশা

কল্পলতা  বা  মৃত্যুলতা - ১

কল্পলতা  বা  মৃত্যুলতা - ২

কল্পলতা  বা  মৃত্যুলতা - ৩

কল্পলতা  বা  মৃত্যুলতা - ৪

মন্দিরের  কোনাচ 

মন্দিরের  উত্তরের  দিকের  দেওয়ালের  কাজ 

শিবলিঙ্গ 


 সহায়ক  গ্রন্থাবলী :
         ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য  
         ২)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ২ য়  খণ্ড ) :  সুধীরকুমার  মিত্র  

                                            ******