Sunday, February 28, 2016

Shri Shri Shyamchand Jiu Temple, Barabazar, Santipur, Nadia

 শ্রী শ্রী শ্যামচাঁদ  জিউ  মন্দির, বড়বাজার, শান্তিপুর, নদিয়া


   শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            শান্তিপুরের  বড়বাজারের  শ্যামচাঁদ  পাড়ায়  অবস্থিত  পাঁচ  খিলানবিশিষ্ট,  অলিন্দযুক্ত,  দক্ষিণমুখী,  বাংলা  আটচালা  শ্রেণীর  শ্যামচাঁদ  মন্দিরটি  পশ্চিমবঙ্গের  এ  শ্রেণীর  বৃহতম   মন্দিরগুলির  অন্যতম ।  উঁচু  পাদপীঠের  উপর  নির্মিত  এ  মন্দিরের  দৈর্ঘ্য,  প্রস্ত,  ও  উচ্চতা  যথাক্রমে  ৫২ ফুট ( ১৫.৮ মি. ),  ৩৬ ফুট ( ১১ মি. )  ও  আনুমানিক  ৭০ ফুট ( ২১.৩ মি. ) । 

             শান্তিপুর  কুঠিরপাড়া  নিবাসী  তন্তুবায়  বংশীয়  গোবিন্দ  দাস  খাঁ  অদ্বৈত  প্রভুর  সঙ্গে  শ্রীহট্ট  থেকে  শান্তিপুরে  এসে  বসতি  স্থাপন  করেছিলেন ।  এই  বংশের  রামগোপাল  খাঁ  চৌধুরী  ১৬৪৮  শকাব্দে  শ্যামচাঁদ  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  করেন ।  ( আসলে  খাঁ  চৌধুরীরা  চার  ভাই  রামগোপাল,  রামজীবন,  রামচরণ  ও  রামভদ্র  এই  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  করেন ।  রামগোপাল  বড়  বলে  তাঁর  নাম  বলা  হয় ।  বিগ্রহের  পাদ-পদ্মাসনে  উক্ত  চার  জনেরই  নাম  খোদিত  আছে । )  মন্দিরের  সামনের  পশ্চিম  প্রান্তীয়  খিলানের  নিচে  নিবদ্ধ  পাথরের  প্রতিষ্ঠা-ফলকের  পাঠ  নিম্নরূপ :
    
                     " শ্রীমতঃ  শ্যামচন্দ্রস্য  মন্দিরং  পূর্ণতামিয়াত্ 
                      বসুবেদার্ত্তুশুভ্রাংশু  সংখ্যয়া  গণিতে  শকে ।।  ১৬৪৮ "

            অর্থাৎ, ১৬৪৮ শকে ( ১৭২৬  খ্রীষ্টাব্দে ) শ্যামচাঁদের  মন্দির  সম্পূর্ণ  হল ।  বসু = ৮,  বেদ = ৪,  ঋতু = ৬,  শুভ্রাংশু = ১  ধরে  অঙ্কের  বামা  গতি  নিয়মানুসারে  প্রতিষ্ঠাকাল  ১৬৪৮  শকাব্দ ।  এই  মন্দিরটির  পাঁচটি  'চূড়া' ।  'চূড়া'  অর্থে  এখানে  'রত্ন'  বা  'শিখর'  নয় ।  কলস, আমলক ( আমলকি  ফলের  মত  চারিদিকে  শলাকার  মত  খাঁজকাটা  পাথরের  বলয় )  ও  চক্রের  দ্বারা  চূড়া  নির্ধারিত  হয়েছে ।

            মন্দিরটির  টেরাকোটা-সজ্জা  যৎসামান্য ।  খিলানগুলির  উপরের  চারিদিকে  বাংলা  আটচালা  শ্রেণীর  প্রতীক  শিবালয়  এবং  তার  মধ্যে  শিবলিঙ্গ ।  উপরের  কার্নিসের  নিচে  দুই  প্রস্থে  পোড়ামাটির  ফুল  এবং  দু  পাশের  উপরে-নিচেও  একই  রকমের  ফুল  মন্দিরটির  অঙ্গ  সজ্জারূপে  বিন্যস্ত  হয়েছে ।  খিলানগুলির  উপরের  প্রস্থে  পঙ্খের  কাজ  ছাড়া  কোন  পোড়ামাটির  কাজ  নেই ।  শ্যামচাঁদের  এই  মন্দিরটির  সঙ্গে  নদিয়া  জেলার  কাঞ্চনপল্লীতে  অবস্থিত  কৃষ্ণরায়ের  আটচালা  মন্দিরটির  আকার  ও  আয়তনের  দিক  থেকে  অনেক  সাদৃশ্য  আছে ।  শ্যামচাঁদের  এই  মন্দিরটির  অবস্থা  এখনও  বেশ  ভাল ।  মন্দিরের  গর্ভগৃহের  দরজার  কাঠের  কাজও  খুব  সুন্দর ।  যদিও  অযত্নে  ও  রঙের  প্রলেপে  তা  অনেকটাই  ম্লান । 
   
            মন্দির  প্রতিষ্ঠা  উপলক্ষে  খাঁ'রা  এখানে  এক  বিরাট  অনুষ্ঠানের  আয়োজন  করেন ।  মন্দির  প্রতিষ্ঠার  সময়  যে  বিরাট  মহাযজ্ঞ  অনুষ্ঠিত  হয়  তাতে  কাশী-কাঞ্চী-দ্রাবিড়-মথুরা,  অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ  প্রভৃতি  স্থান  থেকে  পণ্ডিতমণ্ডলী  আহূত  হন  এবং  এ  জন্য  ৮/৯  লক্ষ  টাকা  ব্যয়  হয় ।  মন্দির  নির্মাণে  ব্যয়  হয়  দু  লক্ষ  টাকা  এবং  এক  লক্ষ  মুদ্রা  নজরানা  নিয়ে  মহারাজা  কৃষ্ণচন্দ্রের  পিতা  নদিয়ারাজ  রঘুরাম  রায়  ( রাজত্বকাল  ১৭১৫-২৮ খ্রীষ্টাব্দ )  সভাগৃহের  প্রধানতম  স্থানে  উপবেসন   করেন ।  শ্যামচাঁদের  মূর্তিটি  কষ্টিপাথরে  নির্মিত ।  আদি  রাধিকা  মূর্তিটি  ছিল  স্বর্ণ  নির্মিত ।  শ্রী শ্রী  শ্যামচাঁদ  বিগ্রহ  নদিয়ারাজের  নামে  এবং  রাধিকা  বিগ্রহ  গুরু  রাধাবল্লভ  গোস্বামীর  ( উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ির  আদি  পুরুষ )  নামে  প্রতিষ্ঠিত  করা  হয় ।  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠার  সময়  যে  সমস্ত  ব্রাহ্মণপণ্ডিতগণ  আগমণ  করেন  তারমধ্যে  গুপ্তিপাড়ার  শ্রী শ্রী  বৃন্দাবন  চন্দ্র  মঠের  শ্রীপাদ  সমকানন্দ  পণ্ডিতমণ্ডলীসহ  উপস্থিত  ছিলেন ।
  
            শ্রী শ্রী শ্যামচাঁদ  বিগ্রহ  প্রতিদিন  পূজিত  হন ।  খাঁচৌধুরীদের  পারিবারিক  বিগ্রহ  রাধাকান্তও  এখানে  উপাসিত ।  মন্দির  প্রাঙ্গণে  ঢুকতে  বাঁ  দিকে  একটি  ছোট  মন্দিরে  একটি   শিবলিঙ্গ  এবং  অপর  একটি  ছোট  মন্দিরে  শ্রীগৌরাঙ্গ,  শ্রীনিত্যানন্দ  ও  শ্রীঅদ্বৈতের  মূর্তি  আছে ।  মন্দিরের  ডান  দিকে  একটি  ছোট্ট  ঘরে  মাধবেন্দ্রপুরীর  মূর্তি  আছে ।  মন্দিরের  সামনে  একটি  বড়  নাটমন্দির  আছে ।  মন্দির  প্রাঙ্গণ  পাঁচিল  দিয়ে  ঘেরা । 

            ১৩৫৭  বঙ্গাব্দে  শান্তিপুরের  সাহেব  পাড়ার  শ্রীমতী  হরিমতি  দাসী  শ্যামচাঁদের  সাবেক  সিংহাসনটির  সংস্কার  ও  ধাতুমণ্ডিত  করে  দেন ।  রামগোপাল  খাঁর  পুত্র  রাজকৃষ্ণ  খাঁর  পত্নী  গোবিন্দমণি  দাসী  বাল্যবিধবা  হওয়ায়  নিঃসন্তান  ছিলেন ।  তিনি  তাঁর  ভাইপো  হরিদাস  প্রামাণিককে  উইল  করে  শ্যামচাঁদ  মন্দিরের  সেবায়ত  নিযুক্ত  করে  যান ।  বর্তমানে  'শ্রী শ্রী  রাধাশ্যামচাঁদ  মন্দির  পরিচালন  কমিটি'  কর্তৃক  বিগ্রহের  সেবাকার্য  পরিচালনা  করা  হয় ।  পশ্চিমবঙ্গ  সরকার  কর্তৃক  মন্দিরটি  সংরক্ষিত ।  মন্দিরটি  সকাল  ৬ টা  ৩০  মিনিটে  খোলে  এবং  রাত্রি  ৮ টা  ৩০  মিনিটে  বন্ধ  হয় ।  নিত্যভোগের  সময়  দুপুর  ১২ টা  ৩০  মিনিট ।  দক্ষিণার  বিনিময়ে  অন্নভোগের  রসিদ  সংগ্রহের  সময়  ৮ টা  ৩০ মিনিট  থেকে  ৯ টা  ৩০  মিনিট ।
  
            রাস  পূর্ণিমা  উপলক্ষে  এই  মন্দিরে  চার  দিন  ব্যাপী  ভক্তবৃন্দ  দ্বারা  হরিনাম  সংকীর্তন  হয়  কিন্তু  ভাঙ্গারাসের  শোভাযাত্রায়  এই  বিগ্রহ  অংশ  নেন  না ।  দোল  পূর্ণিমা   উপলক্ষে  শ্যামচাঁদ  জিউ  নগর  ভ্রমণে  বেরিয়ে  গুরু-গৃহ  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি  যান  এবং  'ডালিধরা'  অনুষ্ঠানে  অংশ  নেন । 
                 
        
শ্রী শ্রী শ্যামচাঁদ  মন্দির ( বাঁ  দিক থেকে তোলা )

শ্রী শ্রী শ্যামচাঁদ  মন্দির ( ডান  দিক থেকে তোলা )

শ্রী শ্রী শ্যামচাঁদ  মন্দির ( সামনে  থেকে তোলা )

মন্দিরের  শিখর-দেশ 

মন্দিরের  পাঁচটি  খিলান 

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ 

মন্দিরের  টেরাকোটা  ও  পঙ্খের  কাজ 

মন্দিরের  একটি  থাম 

মন্দিরের  একটি  খিলানের  উপরের  কাজ 


মন্দিরের  প্রতিষ্ঠা-ফলক 

গর্ভগৃহের  সামনের  খিলানের  কাজ 

গর্ভগৃহের  কাঠের  দরজার  কাজ 

শ্রী শ্রী শ্যামচাঁদ  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ 

শ্রী শ্রী শ্যামচাঁদ  ও  রাধিকা  বিগ্রহ 

শ্রী শ্রী রাধাকান্ত  ও  রাধারানি  বিগ্রহ 


শ্রীপাদ  মাধবেন্দ্রপুরীর  মূর্তি

মন্দিরের  শিবলিঙ্গ 

শ্রীগৌরাঙ্গ,  শ্রীনিত্যানন্দ  ও  শ্রীঅদ্বৈতের  মূর্তি
          
            শান্তিপুরের  শ্রী শ্যামচাঁদ  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  আড়াই  ঘন্টা ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  বড়বাজারে  অবস্থিত   শ্রী শ্যামচাঁদ  মন্দির ।


সহায়ক  গ্রন্থাবলি  : 
                 ১. নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি :  মোহিত  রায়  ( তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )
                 ২. বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য :  প্রণব  রায় 
                 ৩. শান্তিপুর-পরিচয়  ( ১ম  ভাগ ) কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য  


                          

Tuesday, February 23, 2016

Shri Shri Shyamrai Jiu Temple, Shyambazar, Santipur, Nadia

  শ্রী শ্রী শ্যামরাই  জিউ  মন্দির,  শ্যামবাজার,  শান্তিপুর,  নদিয়া
                 
                                                          শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            শ্রীঅদ্বৈতাচার্য়ের  পুত্র  বলরাম  মিশ্রের  কৃতি  সন্তান  মথুরেশ  গোস্বামী ( চক্রবর্তী ) ।  মথুরেশের  কনিষ্ট  পুত্র  রামেশ্বর  চক্রবর্তী  বর্তমান  কাশ্যপপাড়ার  কাছে  শ্রী শ্রী রাধাবল্লভ  জিউর  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  করেন ।  এই  বাড়ি  'চাকফেরা  গোস্বামী'  বাড়ি  নামে  পরিচিত ।  প্রসঙ্গত  উল্লেখ্য,  পূর্বকালে  তিন  থেকে  চার  বা  পাঁচ  দর্শনের  পণ্ডিতগণ  'চক্রবর্তী'  বা  'সার্বভৌম'  উপাধি  পেতেন ।  রামেশ্বরের  দ্বিতীয়  পুত্র  কেশব ।  কেশবের  পুত্র  পিতাম্বর  পিতৃগৃহ  থেকে  পৃথক  হয়ে  শ্যামবাজার  অঞ্চলে  একটি  দালান  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠা  করেন  শ্রী শ্রী শ্যামরাই  বিগ্রহ ।  কথিত  আছে,  এই  বিগ্রহের  নামে  এখানে  একটি  বাজার  হয়েছিল ।  পরে  বাজারটি  বিলুপ্ত  হলেও  অঞ্চলটির  নাম  শ্যামবাজার  রয়ে  গেছে ।  বলা  বাহুল্য,  এই  বাড়ি  'চাকফেরা  গোস্বামী'  বাড়ির  উপশাখা ।  শ্রী শ্রী শ্যামরাই  জিউ'র  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  রাসোৎসব  সহ  সমস্ত  বৈষ্ণব  পূজা-পার্বণ  এখানে  পালন  করা  হয় ।  এই  মন্দিরে  শিব   রূপে  একটি  পাথর  ও  প্রস্তর  নির্মিত  জোড়া  কালী  মূর্তিও  পূজিত  হন । কালী  ও  কৃষ্ণের  সহাবস্থান  সত্যই  বিরল ।    

শ্রী শ্রী  শ্যামরায়  জিউ  মন্দিরের  তোরণ-পথ 

শ্রী শ্রী  শ্যামরায়  জিউ  মন্দির

শ্রী শ্রী  শ্যামরায়  বিগ্রহ 

শিব  ও  জোড়া  কালী 


            শান্তিপুরের  এই  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  আড়াই  ঘন্টা ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়   বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  শ্যামবাজার  পাড়ায়  অবস্থিত  গোস্বামী  বাড়ি ।  

 সহায়ক  গ্রন্থ :
              ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা

        

Monday, February 1, 2016

Shri Shri Radharaman Jiu Temple, Math Bari, Santipur, Nadia


   শ্রী শ্রী রাধারমণ  জিউ  মন্দির,  মঠ  বাড়ি,  শান্তিপুর,  নদিয়া

                                                       শ্যামল  কুমার  ঘোষ


             শান্তিপুরের  বিগ্রহ  বাড়িগুলোর  মধ্যে  মঠবাড়ি  অন্যতম ।  এই  বাড়ির  ইষ্টদেব  শ্রী শ্রী রাধারমণ  মঠ  বাড়ির  ঠাকুর  দালানে  অবস্থিত  একটি  কাঠের  সিংহাসনে  প্রতিষ্ঠিত ।  কথিত  আছে  যে  এই  বাড়ির  পূর্বপুরুষরা  হুগলি  জেলার  জাহ্নবীনগর  গ্রামের  বাসিন্দা  ছিলেন ।  ঐ  বংশের  কেউ  গঙ্গা  তীরে  রাধাকৃষ্ণের  যুগল  মূর্তি  পরিত্যক্ত  অবস্থায়  পান ।  সেই  মূর্তি  বাড়িতে  এনে  প্রতিষ্ঠা  করেন ।  তাঁরা  ছিলেন  তিলি  সম্প্রদায়ভুক্ত  এবং  তণ্ডুল  ব্যবসায়ী ।  ঠাকুর  প্রতিষ্ঠার  পর  ব্যবসায়ে  তাঁদের  প্রভূত  উন্নতি  হয় ।  শোনা  যায়  যে  এক  সময়  বখতিয়ার  খিলজী  তাঁর  সৈন্যদের  জন্য  রসদের  সমস্যায়  পড়লে  এঁরা  তাঁকে  সেই  সংকট  থেকে  উদ্ধার  করেন ।  কৃতজ্ঞতাবশত  তিনি  এই  পরিবারকে  'মঠ'  উপাধি  প্রদান  করেন,  শান্তিপুরে  নিয়ে  এসে  প্রচুর  জমিজমা  দান  করেন  এবং  'মঠবাড়ি'  নির্মাণ  করে  দেন ।

             বিগ্রহের  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  এখানে  অন্যান্য  বৈষ্ণব- উৎসব  ও  সাড়ম্বরে    রাসোৎসব  পালন  করা  হয় ।  এই  বাড়ির  রাসোৎসবের  বিশেষত্ব  হল,  বিদ্যুৎ  বর্জিত  আলো ।  রাস-অঙ্গন  সেজে  ওঠে  প্রাচীনকালের  বেলোয়ারি  ফানুস  এবং  মোমবাতির  স্নিগ্ধ  আলোয় ।  ভাঙ্গারাসের  শোভাযাত্রায়  এই  বাড়ি  অংশ  নেয়  না ।


             শান্তিপুরের  মঠবাড়ি  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  পটেশ্বরী  পাড়ার  কাছে  অবস্থিত  মঠবাড়ি ।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন  

  

মঠ  বাড়ির  ঠাকুর  দালান  

শ্রীশ্রী রাধারমণ  ও  রাধিকা  বিগ্রহ 
 সহায়ক  গ্রন্থ :
              ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা  


                                          *************