Friday, January 29, 2016

Madanmohan Jiu Temple, Uria Goswami Bari, Shantipur, Nadia

       শ্রীশ্রী মদনমোহন  জিউ  মন্দির,  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি,  শান্তিপুর, নদিয়া

                             শ্যামল  কুমার  ঘোষ

             রামচন্দ্র  গোস্বামীর  পুত্র  রাধাবল্লভ  গোস্বামী  (বাচস্পতি )   পুরীধাম  ত্যাগ  করে  শান্তিপুরে  এসে  বসবাস  করতে  থাকেন ।  সেজন্য  তিনি  শান্তিপুরে  উড়িয়া  গোস্বামী  নামে  পরিচিত  হন ।  তিনি  আসবার  সময়  ধাতুময়  শ্রীশ্রী  নৃত্যগোপাল  বিগ্রহ  নিয়ে  আসেন ।  পরে  শ্রীশ্রী  মদনমোহন  বিগ্রহও  একই  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠা  করা  হয় । মন্দিরে  আনুমানিক  ৩০০ বছর  ধরে  নিত্যগোপাল  বিগ্রহ  সহ  মদনমোহন  বিগ্রহের  নিত্যসেবা, ভোগ  ও  সন্ধারাতিসহ   পূজা  হয়ে  আসছে ।  এছাড়া  বিভিন্ন  তিথিতে  বিভিন্ন  বৈষ্ণব-উৎসবও  পালন  করা  হয় ।  দোল  উৎসবে  শ্রীশ্রী  শ্যামচাঁদ  বিগ্রহ,  বারোয়ারি  পূজার  প্রতিমা  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ  সহ  এই  বিগ্রহকে  মন্দিরের  বাইরে  মাঠ-প্রাঙ্গণে  মঞ্চে  বসিয়ে  'ডালিধরা'  অনুষ্ঠান  পালন  করা  হয় ।  এখানে  উল্লেখ্য,  রাধাবল্লভ  গোস্বামী   বাচস্পতি   ছিলেন   খাঁদের  গুরু । 
      
             শান্তিপুরের  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি ।  ৩৪  নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 
          
শ্রী শ্রী মদনমোহন  জিউ  মন্দির, উড়িয়া  গোস্বামী  বাড়ি 

শ্রী শ্রী মদনমোহন  ও  শ্রী শ্রী  নিত্যগোপাল  বিগ্রহ 

শ্রী শ্রী মদনমোহন  বিগ্রহ 


  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                    ১. পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন :  ভূপতিরঞ্জন  দাস
                    ২. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা  
                      

Monday, January 25, 2016

Shri Shri Bangshidhari Jiu Temple, Kansaripara, Shantipur, Nadia

  শ্রী শ্রী বংশীধারী  জিউ  মন্দির, কাঁসারিপাড়া, শান্তিপুর, নদিয়া 

                                                            শ্যামল  কুমার  ঘোষ

           শান্তিপুরের  শ্রী শ্রী  শ্যামচাঁদ  মন্দিরের  কাছে  কাঁসারি  পাড়ায়  একই  পাদপীঠের  উপর  নির্মিত,  অলিন্দবিহীন,  একদরজা  বিশিষ্ট,  পূর্বমুখী  দুটি  বাংলা  আটচালা মন্দিরের  মাঝখানে   অলিন্দযুক্ত  একটি  দালান  মন্দির  অবস্থিত ।  আটচালা  মন্দির  দুটিতে  যাদবেশ্বর  ও  মাধবেশ্বর  নামে  কালো  পাথরের  দুটি  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত ।  শিবমন্দির  দুটির  আয়তন  একই ;  দৈর্ঘ্য,  প্রস্থ  ও  উচ্চতা  যথাক্রমে  ১২ ফুট  ৬ ইঞ্চি ( ৩.৯ মি. ),  ১০ ফুট  ৬ ইঞ্চি ( ৩.৩ মি.)  ও  আনুমানিক  ২০ ফুট ( ৬.১ মি.) ।  উভয়  শিবমন্দিরের  সামনের  দেওয়াল  পোড়ামাটির  মূর্তি  ও  অলংকরণে  সজ্জিত ।  মূর্তিগুলির  বিষয়বস্তু --  দশাবতার,  পৌরাণিক  দেবদেবী,  শিবের  বিবাহ  এবং   রাজপরিষদ ।   দালান  মন্দিরটি  ত্রিখিলান  বিশিষ্ট ।  কোন  অলংকরণ  নেই ।  গর্ভগৃহে  কাঠের  সিংহাসনে  কষ্টিপাথরের  'বংশীধারী  জিউ'  নামে  খ্যাত  শ্রীকৃষ্ণ  ও  অষ্টধাতুর  রাধিকা  মূর্তি  নিত্য  পূজিত ।  এই  সিংহাসনে  শ্রী শ্রী  বঙ্কুবিহারী  জিউ  নামে  খ্যাত  শ্রীকৃষ্ণ  ও  একটি  রাধিকা  মূর্তিও  উপাসিত ।  এই  বিগ্রহ  আগে  বেণে  পাড়ায়  চক্রবর্তী  বাড়িতে  পূজিত  হতেন ।  কয়েক  বছর  আগে  এই  বিগ্রহ  অপহৃত  হয় ।  উদ্ধার  হওয়ার  পর  বিগ্রহ  এখানে  রাখা  হয় ।

           মন্দির  তিনটির  পাদপীঠে  একটি  পাথরের  প্রতিষ্ঠাফলকের  পাঠ  নিম্নরূপ :
                    " অতিষ্ঠিপচ্ছিবস্য  দ্বে  লিঙ্গে  রাধে  যুগেন্দুমে 
                      মঠাভ্যাং  বাণবস্বব্ধিচন্দ্রশাকে  রবের্দিনে ।। 
                           শকাব্দা :  ১৭৮৫ / ১৪  বৈশাখ ।  
                      হরেমূর্ত্তিং  রামযদুনাথদাসস্তথাকরোৎ
                      অভ্রাক্ষিমে  মুনীভাব্ধিভূমিশাকে  বিধোর্দিনে ।।  
                           শকাব্দা :  ১৭৮৭ /  ২০  আষাঢ় ।  "

            অর্থাৎ,  ১৪ বৈশাখ  ১৭৮৫  শকে ( ১৮৬৩  খ্রীষ্টাব্দ ),  রবিবার,  দুটি  শিবলিঙ্গ  দুটি  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠিত  হল ।  ২০  আষাঢ়  ১৭৮৭  শকে  ( ১৮৬৫  খ্রীষ্টাব্দ ),  সোমবার,   রামযদুনাথদাস  কৃষ্ণমূর্তি  প্রতিষ্ঠা  করলেন ।  প্রতিষ্ঠালিপি  অনুযায়ী,  শিবমন্দির  দুটি  দালান  মন্দিরটির  দু  বছর  আগে  নির্মিত  হয় ।

            এই  রামযদুনাথ  যিনি  যদুনাথ  কাঁসারি  নামে  পরিচিত  ছিলেন  তিনি  কাঁসারিপাড়া  নিবাসী  ভক্তিমান  কৃষ্ণচন্দ্র  নাথের  একমাত্র  পুত্র  ছিলেন ।  যদুনাথ  অত্যন্ত  মেধাবী  ছিলেন ।  তিনি  ব্যবসা  সূত্রে  ধনশালী  ও  বহু  সম্পত্তির  অধাকারী  হন ।  মন্দিরে  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  রাস  ও  অন্যান্য  উৎসব  পালন  করা  হয় । 

           শান্তিপুরের  শ্রী বংশীধারী  জিউ  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি মি,  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  শ্রী  শ্যামচাঁদ  মন্দিরের  কাছে  যদুনাথ  কাঁসারি  বাড়িতে  অবস্থিত  শ্রী বংশীধারী  জিউ  মন্দিরে ।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন ।

  

যদুনাথ  কাঁসারি  বাড়ির  ফটক 

বংশীধারী,  যাদবেশ্বর  ও  মাধবেশ্বর  মন্দির 

দক্ষিণ  দিকের  মন্দিরের  সামনের  দিক 

দক্ষিণ  দিকের  মন্দিরের  প্রবেশদ্বার  ও  খিলান 

দক্ষিণ  দিকের  মন্দিরের  খিলানের  কাজ 

দক্ষিণ  দিকের  মন্দিরের  পোড়ামাটির  কাজ - ১

দঃ  দিকের  মন্দিরের  পোড়ামাটির  কাজ - ২

দঃ  দিকের  মন্দিরের  পোড়ামাটির  কাজ - ৩


দঃ  দিকের  মন্দিরের  কাজ ( পাদপীঠ- সংলগ্ন ) - ১

দঃ  দিকের  মন্দিরের  কাজ ( পাদপীঠ- সংলগ্ন ) - ২

দক্ষিণ  দিকের  মন্দিরের  শিবলিঙ্গ 

উত্তর  দিকের  মন্দিরের  সামনের  দিক 

উত্তর  দিকের  মন্দিরের  প্রবেশদ্বার  ও  খিলান 

উত্তর  দিকের  মন্দিরের  খিলানের  কাজ 

উঃ  দিকের  মন্দিরের  কাজ ( পাদপীঠ- সংলগ্ন ) - ১

উঃ  দিকের  মন্দিরের  কাজ ( পাদপীঠ- সংলগ্ন ) - ২

উত্তর  দিকের  মন্দিরের  শিবলিঙ্গ

শ্রীশ্রী বংশীধারী  জিউ  মন্দির 

মন্দিরের  শিলালিপি 

শ্রীশ্রী বংশীধারী  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ 

শ্রীশ্রী বংশীধারী  বিগ্রহ 


  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :

                ১. নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি : মোহিত  রায় ( তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )
                ২. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা   


                                         *******                 

Saturday, January 23, 2016

Jaleswar Shib Temple, Shantipur, Nadia

       জলেশ্বর  শিব  মন্দির,  শান্তিপুর,  নদিয়া 
শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            শান্তিপুরের  প্রাচীন  মন্দির  গুলির  মধ্যে  জলেশ্বর  শিব  মন্দির  উল্লেখযোগ্য ।  মন্দিরটি  মতিগঞ্জ-বেজ  পাড়ায়  অবস্থিত  এবং  অল্প-উঁচু  পাদপিঠের  উপর  স্থাপিত ।  এটি  দক্ষিণমুখী,  অলিন্দবিহীন  ও  বাংলা  চারচালা  শ্রেণীর  মন্দির ।  পূর্ব  দিকেও  আর  একটি  প্রবেশদ্বার  আছে  এবং  এই  প্রবেশদ্বারটিই  এখন  ব্যবহার  করা  হয় ।  কারণ  এই  দিকের   কাছেই  রাস্তা ।  উভয়  প্রবেশদ্বারের  খিলানের  উপর  প্রান্তে  প্রতীক  শিব  মন্দিরের  সারি  এবং  তারমধ্যে  শিবলিঙ্গ  উৎকীর্ণ ।  এ  মন্দিরের  গঠন  কতকটা  দিগনগরের  রাঘবেশ্বরের  মন্দিরের   মত  হলেও  এ  মন্দিরের  উচ্চতা  রাঘবেশ্বরের  মন্দিরের  চেয়ে  বেশি ।  মাটিয়ারির  রুদ্ধেশ্বর    মন্দিরের  সঙ্গেও  এ  মন্দিরের  গঠন  ও  আকৃতির  অনেক  মিল  আছে,  তবে  সেটির  থেকেও  এ  মন্দিরের  উচ্চতা  অনেক  বেশি ।  মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকে  একটি  নাটমন্দির  আছে  যেটি  মন্দির  স্থাপনের  পরবর্তী  কালে  নির্মিত ।  মন্দিরে  কোন  প্রতিষ্ঠালিপি  না  থাকায়  এ  মন্দির  কার  দ্বারা  বা  কোন্  সময়ে  প্রতিষ্ঠিত  তা  সঠিকভাবে  বলা  যায়  না ।  অনেকে  বলেন,  রাজা  রুদ্রের  কনিষ্ট  পুত্র  রামকৃষ্ণের  মাতা  আঠারো  শতকের  প্রথম  দিকে  মন্দিরটি   প্রতিষ্ঠা  করেন ।  আবার  কেউ  কেউ  বলেন  এটি  সপ্তদশ  শতাব্দীর  শেষভাগে  নদিয়ারাজ  রাঘব  রায়  প্রতিষ্ঠা  করেন।  ( রাজত্বকাল  ১৬৩২-৮৩ )।  এক  সময়ে  এই  শিবলিঙ্গ  লোকের  কাছে   'রানির  শিব'  বা  'রুদ্রকান্ত'  নামে  পরিচিত  ছিল ।  পরে  কোন  এক  সময়ে  এখানে  নিদারুণ   অনাবৃষ্টির  সময়  সাধক  বিজয়কৃষ্ণ  বৃষ্টিপাতের  জন্য  শিবের  মাথায়  প্রচুর  গঙ্গাজল  ঢেলেছিলেন ।  তারপরই  বেশ  বৃষ্টিপাত  হয় ।  আর  তারপর  থেকেই  শিবের  নাম  হয়  'জলেশ্বর' ।  শিবলিঙ্গটি  কাল  পাথরের ।  উচ্চতা  প্রায়  ৩  ফুট (৯২ সে. মি. ) ।  জলেশ্বর  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত । 

            স্বর্গীয়  কালীচরণ  চট্টোপাধ্যায়ের  মাতামহের  পূর্বপুরুষরা  এই  মন্দিরের  সেবায়েত  ছিলেন ।  কালীচরণ  বাবু  একবার  এই  মন্দিরের  সংস্কার  করেন ।  তিনি  মিউনিসিপ্যাল  কমিশনার  ও  অনারারি  ম্যাজিস্ট্রেট   ছিলেন ।  তাঁর  কন্যা  স্বর্গীয়া  মোহিতকুমারীর  ( শান্তিপুরের  প্রসিদ্ধ  ধনী  স্বর্গীয়  কিশোরীলাল মুখোপাধ্যায়ের  পুত্রবধু )  সময়  নাটমন্দিরটি  নির্মিত  হয় । 
  
            মন্দিরটি  পোড়ামাটির  সূক্ষ্ম  মূর্তি  ও  নকাশি   অলংকরণে  অলংকৃত ।  মন্দিরের  দক্ষিণ  ও  পূর্ব  উভয়  প্রবেশদ্বার  দুটিকে  ঘিরে  দুই  সারি  কুলুঙ্গির  মধ্যে  মূর্তিগুলি  উৎকীর্ণ ।   দেওয়ালের  বাকি  অংশ  প্রধানত  নকাশি  সজ্জায়  সজ্জিত ।  মূর্তিগুলির   পৌরাণিক  বিষয়বস্তু  --  কৃষ্ণলীলার  বিভিন্ন  দৃশ্য,  ভীষ্মের  শরশয্যা,  রামায়নের  কাহিনী,  মারীচ,  গরুড়বাহন,  বিষ্ণু,  হরগৌরী,  গণেশ,  কালী,  নারদ  ইত্যাদি  এবং   সামাজিক  বিষয়বস্তু  --  বন্দুকধারী  সাহেব,  তীরন্দাজ  ব্যাধ,  বর্মপরিহিত  যোদ্ধা  প্রভৃতি ।  অনেকগুলি  কুলুঙ্গির  মূর্তি  এখন   বিনষ্ট ।  সংস্কারের  সময়  পোড়ামাটির  সজ্জার  উপর  রঙিন  কলিচুনের  প্রলেপ  দেওয়ায়  পোড়ামাটির  অলংকরণ  এখন  অনেকটাই  ম্লান । 

            শান্তিপুরের  জলেশ্বরের  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  জলেশ্বরের  মন্দির  ।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন । 


জলেশ্বর  শিব  মন্দির 

শিব  মন্দিরের  চূড়া 

মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকের  প্রবেশ-দ্বার ( নাটমন্দির  থেকে )

মন্দিরের  পূর্ব  দিকের  প্রবেশ-দ্বার 

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ১

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ২

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ৩

মন্দিরের  টেরাকোটার  কাজ - ৪

জলেশ্বর  মন্দির  ও  নাটমন্দির 

জলেশ্বর  শিবলিঙ্গ 

       সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                 ১.  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য  :  প্রণব  রায় 
                 ২.  নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি  :  মোহিত  রায়  ( তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )
                 ৩.  শান্তিপুর - পরিচয় ( ১ ম  ভাগ ) : কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য
 
                                                                     ********       

Thursday, January 21, 2016

ShriShri Gopikanta Jiu Temple, Khan Bari, Shantipur, Nadia

   শ্রীশ্রী  গোপীকান্ত  জিউ  মন্দির,  খাঁ  বাড়ি,  শান্তিপুর, নদিয়া

                                                     শ্যামল  কুমার  ঘোষ

             খাঁ  দের  পূর্বপুরুষ গোবিন্দ ( তন্তুবায় ) শ্রীঅদ্বৈতের  সঙ্গী  হয়ে  শ্রীহট্ট  থেকে  শান্তিপুরে  আসেন ।  ইঁহারা  সমুদ্রপথে  বাণিজ্য  করতেন ।  গোবিন্দের  পুত্র  গৌরী  ব্যবসায়ে  অর্থবান  হয়ে  'ভাগ্যবন্ত' উপাধি  পান ।  গৌরীপুত্র  শ্রীমন্ত  নবাব  সরকারে  ঋণদান  করতেন ।   সেজন্য  'খাঁ'  উপাধি  পান ।  কেউ  কেউ  বলেন  যে  শ্রীশ্রী শ্যামচাঁদ  মন্দির  প্রতিষ্ঠার  সময়  নদিয়ারাজ  খাঁ- দের  'চৌধুরী'  উপাধি  প্রদান  করেন  এবং  মহারাজ  দুলক্ষ  টাকা  গ্রহণ  করেন ।   আবার  কেউ  কেউ  বলেন  যে  এই  উপাধি  নবাব  প্রদত্ত ।  উড়িষ্যার  রাজার  সঙ্গে  যখন  মুর্শিদাবাদের  নবাবের  যুদ্ধ  হয়  তখন  যাত্রাপথে  নবাবের  সৈন্যবাহিনীকে  আঠার  দিন  বর্ষা  প্রভৃতি  কারণে  শান্তিপুরের  চরে  আটকে  থাকতে  হয় ।  সেই  সময়  রামগোপালের ( শ্যামচাঁদ  মন্দিরের  প্রতিষ্ঠাতা )  পিতামহ  যাবতীয়  রসদ  সরবরাহ  করেন  এবং  তিনি  অর্থ  গ্রহণে  অসম্মত  হওয়ায়  নবাব  তাঁহাকে  চৌধুরী  উপাধি  প্রদান  করেন ।  সেই  সময়  থেকে  দুটি  বংশ  হয় --  খাঁ  এবং  খাঁচৌধুরী ।  পরে  কেবল  খাঁ  বংশই  বর্তমান  থাকে । 

             এই  বংশের  জ্যেষ্ঠ  রামগোপাল  খাঁ  ১৪৪৮  শকাব্দে  শ্যামচাঁদ  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  করেন ।  তাঁর  অপর  তিন  ভাই  রামজীবন,  রামচরণ  ও  রামভদ্র  পৃথক  পৃথক  শ্রীকৃষ্ণ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন ।  রামচরণ  খাঁ  শ্রীশ্রী  গোপীকান্ত  বিগ্রহ  শ্রীরাধিকা  সহ  প্রতিষ্ঠা  করেন ।   মতান্তরে,  শ্রীমন্ত  খাঁর  পুত্র  কৃষ্ণবল্লভ  এই  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন । মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  অলিন্দযুক্ত  এক  দালান  মন্দির ।  মন্দির  সংলগ্ন  অন্যান্য  ঘরও  আছে । 

             এখানে  উল্লেখ্য,  মথুরেশের  সময়  থেকে  শান্তিপুরে  রাস  উৎসবের  প্রচলন  থাকলেও  ভাঙ্গারাসের  উৎসব  প্রচলন  করেন  এই  খাঁ  বংশ ।  তাঁরা  ১৬৪৯  শকাব্দে  ভাঙ্গারাস  নামে  খ্যাত  শ্রীকৃষ্ণ  ও  রাধিকা  বিগ্রহের  নগর  পরিক্রমা  অনুষ্ঠানের  প্রচলন  করেন ।  ক্রমে  তাঁরা  বড়  গোস্বামী  বাড়িকে  আমন্ত্রণ  করে  তাঁদের  পুরোভাগে  রেখে  নিজেরা  তাঁদের  অনুগমন  করেন ।  পরে  অন্য  গোস্বামীরা  এসে  যোগ  দেন  এবং  এবং  খাঁচৌধুরীদের  অনুগমন  করেন ।
   
             শান্তিপুরের  খাঁ  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই । স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  বড়  গোস্বামী  বাড়ির  কাছে  অবস্থিত  খাঁ  বাড়ি ।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন ।    
       

খাঁ  বাড়ির  ফটক  ও  বাড়ি 

খাঁ  বাড়ির  ঠাকুর  দালান 

শ্রীশ্রী  গোপীকান্ত  বিগ্রহ - ১

শ্রীশ্রী  গোপীকান্ত  বিগ্রহ - ২
             
সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :           
                   ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা     
                   ২. শান্তিপুর - পরিচয় ( ১ ম  ভাগ ) :  কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য 

                           

Wednesday, January 20, 2016

Shrishri Radhaballabh Jiu Temple, Ashananda's House, Shantipur, Nadia

শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির,  আশানন্দ  বাড়ি,  শান্তিপুর, নদিয়া

                                                            শ্যামল  কুমার  ঘোষ

                  উনবিংশ  শতকের  প্রথম  ভাগে  শান্তিপুরে  আশানন্দ  মুখোপাধ্যায়  নামে  এক  বীরপুরুষ  জন্মগ্রহণ  করেন ।  তিনি  যেমন  সরল  প্রকৃতি  ও  সহৃদয়  ছিলেন  তেমনই  ছিলেন  অসীম  শক্তির  অধিকারী ।  একবার  তিনি  অতিথি  হয়ে  জনৈক  ধনী  গৃহস্থের  বাড়িতে  রাত  কাটাচ্ছিলেন ।  ঐ  বাড়িতে  রাতে  হঠাৎ  একদল  ডাকাত  পড়ে ।  আশ্রয়দাতা  গৃহস্বামীর  এরূপ  বিপদ  দেখে  বীর   আশানন্দ  হাতের  কাছে  অন্য  অস্ত্র  না  পেয়ে  কাছের  একটি  ঢেঁকিশাল  থেকে  এক  প্রকাণ্ড  ঢেঁকি  নিয়ে  ডাকাতদের  মোকাবিলা  করেন  এবং  তাদের  তাড়িয়ে  দেন ।  এই  কাজের  জন্য  তিনি  জনসমাজে  'আশানন্দ  ঢেঁকি'  নামে  পরিচিত  হন ।  ১৩৩৯  বঙ্গাব্দে  বীর  আশানন্দের  স্মৃতি  রক্ষার  জন্য  তাঁর  বাসভবনের  সামনে  একটি  স্মৃতিস্তম্ভ  নির্মাণ  করা   হয় । 

আশানন্দের  স্মৃতিস্তম্ভ 

                  আশানন্দের  কোন  এক  পূর্বপুরুষ  আনুমানিক  পাঁচশো  বছর  আগে  নিজগৃহে  শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন ।  বিগ্রহ  বর্তমানে  শিখরযুক্ত  এক  দালান  মন্দিরে  স্থাপিত ।  আশানন্দের  বংশধরদের  মধ্যে  কেউ  জীবিত  না  থাকায়  এবং  তাঁর  দূর  সম্পর্কের  আত্মীয়-স্বজনের  অবস্থাও  দুর্বল  হওয়ায়  এই  পল্লীর  জনসাধারণ  ১৯৩৩  খ্রীষ্টাব্দের  ২০ শে   সেপ্টেম্বর  একটি  ট্রাষ্টিবোর্ড  গঠন  করে  এই  বিগ্রহ  পরিচালনার  ভার  গ্রহণ  করেন ।  মন্দিরে  রাধাবল্লভ  জিউর  নিত্যপূজা  ছাড়াও  রাস  পূর্ণিমায়  সাড়ম্ভরে  রাসোৎসব  পালন  করা  হয় ।  ভাঙ্গারাসের  উৎসবে  আশানন্দ  পল্লীর  শোভাযাত্রায়  ঢেঁকি  হাতে  আশানন্দের  দীর্ঘকায়  পট  সর্বাগ্রে  রাখা  হয় ।  এখানে  উল্লেখ্য,  আশানন্দ  পল্লীই  রাসের  শোভাযাত্রায়  প্রথম  মানুষ  সঙ  বার  করে  যা  আজও  চলে  আসছে ।

                  শান্তিপুরের  আশানন্দের  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই । স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  পটেশ্বরী  পাড়ার  কাছে  অবস্থিত    আশানন্দের  বাড়ি ।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন । 

আশানন্দের  বাড়ির  গেট  ও  শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির

শ্রী শ্রী  রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির

শ্রী শ্রী  রাধাবল্লভ  বিগ্রহ - ১

শ্রী শ্রী  রাধাবল্লভ  বিগ্রহ - ২
সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :           
                   ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা     
                   ২. বাংলায়  ভ্রমণ  ( ১ম  খণ্ড ) : পূর্ববঙ্গ  রেলপথের  প্রচার  বিভাগ  কর্তৃক  প্রকাশিত
       
    

Shri Radharaman Jiu Temple, Dindayal Babur Bari, Shantipur, Nadia

 শ্রীশ্রী রাধারমণ  জিউ  মন্দির, দীনদয়াল  বাবুর  বাড়ি,  শান্তিপুর,  নদিয়া 

                                           শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            এই  বাড়ির  পূর্বপুরুষরা  আগে  সমুদ্রগড়ে  বাস  করতেন ।  প্রায়  তিনশো  বছর  আগে  ব্যবসার  কারণে  তাঁরা  শান্তিপুরে  চলে  আসেন ।  তাঁদের  রেশম  ও  বস্ত্রের  ব্যবসা  ছিল ।  এঁদেরই   পূর্বপুরুষ  রামচন্দ্র  প্রামাণিক  ১২০৭  বঙ্গাব্দে  একটি  ঠাকুর  দালান   নির্মাণ  করে  গর্ভগৃহে  প্রতিষ্ঠা  করেন  কষ্টিপাথরের  শ্রীরাধারমণ  ও  অষ্টধাতুর  শ্রীমতি  বিগ্রহ ।  পরে  তাঁর  পৌত্র  দাশুবাবু  প্রচুর  অর্থব্যয়ে  এই  ঠাকুর  দালানের  আমূল  সংস্কার  করেন ।  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত ।  মন্দিরের  সামনে  বাঁধান  ফাঁকা  উঠোন  এবং  তাকে  ঘিরে  চকমিলানো  অন্যান্য  ঘর ।  বিগ্রহের  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  অন্যান্য  বৈষ্ণব-উৎসব  ও  রাস  উৎসব  পালন  করা  হয় ।  রাসের  সময়  প্রাচীনকালের  বেলোয়ারি  ঝাড়বাতিতে  মোমবাতির  স্নিগ্ধ  আলোয়  এখানকার  রাস  উৎসব  পালন  করা  হয় ।

             দাশুবাবুর  পুত্রই  জমিদার  দীনদয়াল  প্রামাণিক ।  দীনজনের  প্রতি  তিনি  অত্যন্ত  দয়ালু  ছিলেন  বলে  তাঁর  নাম  হয়  দীনদয়াল ।  এক  সময়  অর্থাভাবে  শান্তিপুর  মিউনিসিপ্যাল  উচ্চ  বিদ্যালয়ের  শিক্ষকদের  বেতন  বন্ধ  হওয়ার  উপক্রম  হলে  তিনি  সেই  বেতনের  দায়িত্ব  নেন ।  এই  বাড়ির  বংশধর  যশোদানন্দন  প্রামাণিক  ছিলেন  অসাধারণ    পণ্ডিত ।  তিনি  ১৮৭১  খ্রীষ্টাব্দে  এম-এ  পরীক্ষায়  ইতিহাসে  প্রথম  বিভাগে  প্রথমস্থান  পান ।  যশোদাবাবু  যথাক্রমে  শান্তিপুর  মিউনিসিপ্যাল   উচ্চ   বিদ্যালয়,  ভবানীপুরের  সাউথ  সুবার্বান  স্কুল  ও  কান্দি  স্কুলের  প্রধান  শিক্ষক  রূপে  কাজ  করেন ।  স্যর  আশুতোষ  মুখোপাধ্যায়  ও  রামেন্দ্র  সুন্দর  ত্রিবেদী  তাঁর  ছাত্র  ছিলেন ।  তাঁর  গ্রন্থাগারের  সমস্থ  বই  তিনি  শান্তিপুরের  সাধারণ  গ্রন্থাগারে  দান  করেন ।  তাঁর  নামেই  ঠাকুর  বাড়ির  সামনের  রাস্তার  নাম  যশোদানন্দন  স্ট্রীট । 

            শান্তিপুরের  দীনদয়াল  বাবুর  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  পটেশ্বরী  পাড়ার  কাছে  অবস্থিত  দীনদয়াল  বাবুর বাড়ি ।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন । 

 

দীনদয়াল  বাবুর  ঠাকুরবাড়ির  সদর  দরজা  

দীনদয়াল  বাবুর  বাড়ির  ঠাকুরদালান  ও  ঠাকুরবাড়ি 

শ্রীরাধারমণ  ও  শ্রীমতি  বিগ্রহ - ১

শ্রীরাধারমণ  ও  শ্রীমতি  বিগ্রহ - ২

  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                 ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা 

                 ২. শান্তিপুর - পরিচয় ( ২ য়  ভাগ ) :  কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য     

           

Sunday, January 10, 2016

Pagla Goswami Bari, Santipur, Nadia


   শ্রীশ্রী কৃষ্ণরাই  ও  কেশবরাই  জিউ  মন্দির,
    ( পাগলা  গোস্বামী  বাড়ি ),  শান্তিপুর,  নদিয়া  

                                    শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            শ্রীঅদ্বৈতাচার্য়ের  তৃতীয়  পুত্র  বলরাম  মিশ্রের  কনিষ্ঠ  পুত্র  কুমুদানন্দ  থেকে  আউলিয়া  বা  পাগলা  গোস্বামী  বাড়ির  উৎপত্তি ।  কুমুদানন্দ  ছিলেন  পণ্ডিত  ও  মহাসাধক ।  ধন-ঐশ্বর্যের  প্রতি  তাঁর  কোন  মোহ  ছিল  না ।  কথিত  আছে,  কৃষ্ণনগরের  রাজা  ( মতান্তরে,  কোন  এক  ভূস্বামী )  বিগ্রহের  সেবার  জন্য  সম্পত্তি  দানপত্র  করে  সেই  দলিল  কুমুদানন্দের  কাছে  পাঠিয়ে  দেন ।  গোঁসাইজি  "ধন-ঐশ্বর্য  শুকরী  বিষ্ঠা  সম" -- এই  কথা  মুখে  বলতে  বলতে  ঐ  দলিলে  আগুন  দিয়ে  কৃষ্ণরায়ের  আরতি  করেন ।  সেই  থেকে  এই  বংশ  আউলিয়া  গোস্বামী  বা  পাগলা  গোস্বামী  বংশ  নামে  পরিচিত  হয় ।
  
            শান্তিপুরের  কাশ্যপ  পাড়ায়  অবস্থিত  এই  পাগলা  গোস্বামী  বাড়ির  সেবিত  বিগ্রহ  শ্রীশ্রী কৃষ্ণরাই  ও  কেশবরাই  জিউ ।  বিগ্রহ  দুটি  বর্তমানে  পৃথক  পৃথক  দুটি  মন্দিরে  স্থাপিত ।  এই  দুটি  মন্দির  ছাড়াও  এখানে  একটি  নাটমন্দির  ও  একটি  রাসমন্দির  আছে ।  ১৯৫৭  সালে  এই  বাড়ির  একটি  শ্রীমতি  বিগ্রহ  অপহৃত  হলে  নতুন  শ্রীমতি  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করা  হয় ।  এই  বংশের  ধীরানন্দ ( মধু )  গোস্বামী  স্বাধীনতা  আন্দোলনের  সঙ্গে  যুক্ত  ছিলেন ।  তিনি  দীর্ঘদিন  কারান্তরালে  ছিলেন  এবং  অবিভক্ত  বঙ্গে  নদিয়া  জেলা  কংগ্রেসের  সভাপতি  ছিলেন ।  এই  ধীরানন্দ  গোস্বামীরই  পুত্র  বর্তমান  কালের  জনপ্রিয়  কবি  জয়  গোস্বামী । এছাড়া  এই  বংশেরই  জগদানন্দ ( নারায়ণ ) গোস্বামী  শান্তিপুর  পৌরসভার  সভাপতি  ছিলেন ।  শান্তিপুর  পাবলিক  লাইব্রেরীর  প্রতিষ্ঠাতাদের  মধ্যে  অন্যতম  ছিলেন  নারায়ণ  গোস্বামী ।  এখান  থেকেই  শ্রী  আশুতোষ  মুখোপাধ্যায়  হরিচরণদাস  কৃত  'অদ্বৈতমঙ্গল'  নামের  মূল  পুঁথিটি  সংগ্রহ  করে  কলিকাতা  বিশ্ববিদ্যালয়ের  গ্রন্থাগারে  দান  করেন ।  রাস  ছাড়াও  এখানে  প্রতিটি  বৈষ্ণব-উৎসব  যথাযোগ্য  মর্যাদায়  পালিত  হয় ।

            শান্তিপুরের  পাগলা  গোস্বামী  বাড়ি  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন ।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  আড়াই   ঘন্টা ।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  কাশ্যপ  পাড়ায়  পাগলা  গোস্বামী  বাড়ি ।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন । 

শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  জিউ  মন্দির 

শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  বিগ্রহ - ১

শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  বিগ্রহ - ২

শ্রীশ্রী কেশবরাই  জিউ  মন্দির - ১

শ্রীশ্রী কেশবরাই  জিউ  মন্দির - ২

শ্রীশ্রী কেশবরাই  বিগ্রহ 

নাটমন্দির 

নাটমন্দিরের  কারুকার্য 

নাটমন্দিরের  একটি  থামের  কারুকার্য 

   সহায়ক  গ্রন্থাবলি  : 
                   ১. নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি  মোহিত  রায়  ( তথ্য-সংকলন  ও   গ্রন্থনা ) 
                   ২. পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন  :  ভূপতিরঞ্জন  দাস  
                  ৩. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা